জিয়ারতে মুফতি নজির আহমদ রহমতুল্লাহ আলাইহি, বারৈয়ার হাট, দৌলতপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

সোলতানুল আউলিয়া, খাজায়ে বাঙাল, হাফেজ মুনিরুদ্দিন হালিশহরী রহমতুল্লাহ আলাইহি এর বিশিষ্ট মুরিদ, উস্তাজুল আসতেজা, উস্তাজুল উলামা, শামসুল উলামা, হযরত শাহ সূফি মুফতি নজির আহমদ রহমতুল্লাহ আলাইহি এর মাজার জিয়ারত করলাম। মুর্শিদে করীম মঃজিঃআঃ এর উসিলায় আত্মায় শান্তি পেলাম। স্বস্তি বোধ করলাম। বাহ্যিক ভাবে একটা জিনিস পেলাম। তিনি কুতুবুল আলম শাহ সূফি আল্লামা সৈয়দ মীর আহমদ মুনিরী রহমতুল্লাহ আলাইহি সহ অসংখ্য পীর মাশায়েখ আলেম উলামার শিক্ষাগুরু ছিলেন। তিনি খুবই সাদাসিধে জিবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। ছাত্রদের কে নিজ সন্তানের মত মহব্বতের সাথে নাম ধরেই ডাকতেন। তুমি বলে সম্বোধন করতেন।

“আয়িনা – ই – মুনিরী” ২য় খন্ড ৫৫ – ৬০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত হযরত সোলতানুল আউলিয়া খাজায়ে বাংগাল হাফেজ সৈয়দ মুনিরুদ্দীন হালিশহরী রহমতুল্লাহ আলাইহির মোট ২৭ জন খলিফার নাম সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ১৬ নাম্বারে হযরত মুফতি নজির আহমদ রহমতুল্লাহ আলাইহির নাম ও পরিচিতি এভাবে উল্লাখ আছে- ১৬) হযরত মাওলানা নজীর আহমদ ছাহেব (রহঃ)। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ফটিকছড়ি জামেউল উলুম মাদ্রাসার সুপারিনটেন্ড ছিলেন। প্রায় সময়ে দিনের বেলা ১১ টার সময়ে তিনি বাবার কাছে আসতেন। এখানে এসে খুব আদব রক্ষা করতেন। আসার সময়ে সাথে কোন মুরিদান নিয়ে আসতেন না, ত্বরিকতের কাজে যথেষ্ট উন্নতি করেছিলেন, সম্ভবত তার বাড়ীতেই তাঁকে দাফন করা হয়।


তৎকালীন সময়ে মানুষের চাহিদা মেটাতে “মজহারুল ইছলাম” নামক ইসলামী শরীয়তের পঞ্চ ভিত্তির ওপর জা-মে-মা-নে’ একটি কিতাব রচনা করেন। যা পড়লে সামান্য অনুধাবন করা যায় যে, তিনি কত উঁচু মাপের একজন মুফতি ছিলেন। মুহাক্কিক আলেম ছিলেন। এটি ১৯৬১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশক ছিলেন, কুতুবুল আলম শাহ সূফি সৈয়দ মওলানা মীর আহমদ মুনিরী রহমতুল্লাহ আলাইহি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তার পরবর্তীতে একিতাবের ছাপানো বা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বংশের কেউ বা হিতাকাংখীদের কেউ এগিয়ে আসেন নি। যার কারণে এমূল্যবান কিতাব টি উপকার বঞ্চিত হয়ে আছে।


আল্লামা মুফতি নজির আহমদ রহমতুল্লাহ আলাইহি এর শেষ জিবনের একটি ঈমান দীপ্ত ঘটনা উল্লেখ না করলে হয়না। আর তা হলো- মুফতি সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি এর ইন্তেকালের পুর্বে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ একটি মাহফিল করেছিলেন। ঐ মাহফিলের ২/১ দিন আগে মুফতি সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি লোক মারফত শাহ সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি এর নিকট খবর দিলেন, আমার মীর আহমদ কে বলবে, আগামী ১২ রবিউল আউয়াল কোন দিকে যেন মাহফিলের দাওয়াত না নেয়। আর যদি নিয়ে থাকে, তাহলে যেন ঐ মাহফিল বাদ দেয়। ঘটনাক্রমে, শাহ সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও উত্তর গোপাল ঘাটায় ১২ রবিউল আউয়াল তারিখের মাহফিল আগেই নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু উস্তাদের হুকুম রক্ষা করতেই হবে। তাই তিনি উত্তর গোপাল ঘাটার ঐমাহফিল বাদ দিয়ে উস্তাদের হুকুম রক্ষার্থে সঠিক সময়ে মুফতি সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি এর বাড়িতে পৌঁছলেন। মুফতি সাহেব হুজুরের বাড়ির উঠানে পূর্ব মূখী করে মাহফিলের পেন্ডেল করেছিলেন। বাদে মাগরিব থেকে তৎকালীন সময়ের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা আব্দুল মান্নান রহমতুল্লাহ আলাইহি তকরীর করতেছিলেন।
হযরত শাহ সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি মুফতি নজির আহমদ রহমতুল্লাহ আলাইহি এর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে, মুফতি সাহেব হুজুর শাহ সাহেব হুজুর কে বললেন, তুমি মাহফিলে যাও, আমি আসতেছি। একথা বলার পর শাহ সাহেব হুজুর মাহফিলের রওয়ানা দিলেন। সাথে সাথে মুফতি সাহেব হুজুরও লাঠি হাতে নিয়ে রওয়ানা দিয়ে; মাহফিলের নিকটবর্তী হয়ে বললেন, আব্দুল মান্নান! তুমি ওয়াজ বন্ধ করো! আমার মীর আহমদ ওয়াজ করবে। (আগেই বলেছি, মুফতি সাহেব হুজুর সবাই কে নাম ধরেই ডাকতেন। সবাইকে তুমি বলে সম্বোধন করতেন।) তিনি ছেড়ে দিলেন। মুফতি সাহেব হুজুর মাহফিল মঞ্চে উঠলেন। মাহফিলে তিন টি চেয়ার খালি ছিল। মুফতি সাহেব হুজুর মাঝখানের খালি রেখে ডানের চেয়ারে তশরিফ রাখলেন। মাইক ওয়ালা কে বললেন আমাকে মাইক দাও। উপস্থিত শ্রোতারা আশ্চর্যান্বিত হলো। হুজুর বললেন, আমার মীর আহমদ ওয়াজ করবে। আর এখন মাইক নিজে টেনে নিলেন! কী ব্যাপার! কিন্তু দেখা গেল, এখনই মাহফিল করার মূল রহস্য উদঘাটন হতে যাচ্ছে।মাইক নিয়ে মুফতি সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, কান্নার স্বরে, আনন্দের আবরণে বললেন, আমার আজকের এমাহফিল একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। আমি কয়েক দিন আগে স্বপ্নে দেখলাম। এখানে একটি মাহফিল হচ্ছে, ঐমাহফিলে তিন টি চেয়ার আছে। মাঝখানের চেয়ারে হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তশরিফ ফরমা আছেন। এক পাশে আমার পীর ও মুর্শিদ হালীশহরী রহমতুল্লাহ আলাইহি অপর পাশে হযরত বড় পীর গাউছুল আজম আব্দুল কাদের রহমতুল্লাহ আলাইহি দাঁড়ানো। হালীশহরী রহমতুল্লাহ আলাইহি এর পাশে আমার মীর আহমদ ওয়াজ করতেছে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবাসসুম ফরমাচ্ছেন। মুচকি মুচকি হাসতেছেন।
একথা বলে, মুফতি সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি হযরত শাহ সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি এর হাত ধরে উপরের দিকে তুলে ধরে বললেন, কিয়ামতের দিন আমি গুণাহগার আল্লাহ তাআলা সামনে বলব, আল্লাহ! আমি দুনিয়াতে কোন আমল করতে পারিনি। আমার আমল হিসেবে আমার মীর আহমদ কে এনেছি। আল্লাহ! মীর আহমদ কে তুমি কবুল করে আমাকে ছেড়ে দাও। একথা বলার সাথে সাথে মুফতি সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি ও উপস্থিত জনতা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি খুবই তাকওয়াবান ছিলেন। শফিকীয়া দরবার শরীফের মহান মুর্শিদ কিবলা মঃজিঃআঃ এর জবানে পাকে শুনেছি। একদা, মাদরাসা ছুটির পর মুফতি সাহেব রহমতুল্লাহ আলাইহি কাঞ্চন নগর মাহফিলের উদ্যেশ্যে বের হলেন। সাথে কয়েকজন মানুষও মাহফিলে যাচ্ছিলেন। তখন রাস্তা তেমন ভালো ছিল না। তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য সবাই বললেন ‘ হুজুর! রাস্তা দিয়ে হেটে গেলে অনেক সময় লাগবে। জমীনে জমীনে চলেন। মুফতি সাহেব রহমতুল্লাহ আলাইহি বললেন, ওবা! জমীনে ধান পেঁকেছে। আমার পায়ের আঘাতে যদি একটি ধানও ঝড়ে পরে, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সামনে কী জওয়াব দিব। কষ্ট হলেও রাস্তায় রাস্তায় যাব।’
আল্লাহ তাআলা তাঁদের উসিলায় আমি গুণাহগার ও পাঠকদের কবুল করুন। আউলিয়ায়ে কেয়ামতের মতে পথে চলার তাওফিক দান করুন।
আল্লাহ! হালীশহরী রহমতুল্লাহ আলাইহি এর ফয়জ ও বরকত কিয়ামত পর্যন্ত জারী-ছারী রাখুন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।
( মুফতি সাহেব হুজুর ও তাঁর কিতাবের উপর লিখিত আমার এক্ষুদ্র লেখা। যদি কারো কাছে মুফতি নজির আহমদ রহমতুল্লাহ আলাইহি এর জন্ম ও মৃত্যু তারিখ, শিক্ষা জীবন, পারিবারিক জীবন, শিক্ষকতা জীবন ও তাঁর জীবনের উপর লিখিত কোনো কিছু থাকে, সাহায্য করলে উপকৃত হবো। আমার একজন মোহতারাম উস্তাজের এম ফিল গবেষণার জন্য খুবই প্রয়োজন। যোগাযোগ- 01819979132)