উস্তাজুল আসাতেজা হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ মোজাফ্ফর আহম্মদ (রহ.)
১৯২৫ সালে মীরশ্বরাই থানার সাহেরখালী ইউনিয়নের মোল্লা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। প্রাথমিক জীবনে তিনি মক্তবে কায়দা আমপারা কোরআন শরীফ অধ্যায়ন করেন,তারপর তিনি সূফিয়া নুরীয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ভর্তি হলেন। তথায় তিনি উস্তাদ হিসেবে পেয়েছেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতিয়ে আজ্ম হযরত মাওলানা আব্দুল গণি (রহ.) কে, সেখানে তিনি হুজুরের সান্নিধ্যে থেকে তার শৈশবকাল ও যৌবনকালের পড়ালেখা ফাযিল পর্যন্ত শেষ করেন, সেখান থেকে চট্টগ্রাম দারুল উলূম আলিয়া মাদ্রাসায় কামিল (হাদিস) বিভাগে ভর্তি হন, তিনি তাঁহার কৃত্বিত্যের সাথে কামিল সমাপ্ত করেন।
পড়ালেখা শেষে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ক্ষকতা শুরু করেন, তন্মধ্যে মীরসরাই লতিফিয়া মাদ্রাসায় হেড় মাওলানা পদে যোগদান করেন। কিছুদিন পর সেখান থেকে উত্তরভঙ্গে দিনাজপুরের ঠাঁকুরগাঁওয়ে বেগুনবাড়ী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
সেখান থেকে পরবর্তী শর্শিনা আলিয়া মাদ্রাসায় মোহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন, সেখানে তিনি বাইচ্ছা হুজুর নামে বেশ পরিচিতি ও খ্যাত ছিলেন।
পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এর পাশাপাশি স্টেশন রোড জামে মসজিদের খতিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কিছুদিন পর তিনি মনস্থ করলেন, সুন্নি মতাদর্শের তরিক্বত ও তাসা’উর পন্থী একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার। এই লক্ষে তিনি শর্ষিনার পীর সাহেব হযরত মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ্ (রহ.) এর নিকট এই ইচ্ছাটা প্রকাশ করেন। পীর সাহেব (রহ.) এর অনেক মুরিদান সহ হাজ্বী সৈয়দ আহমদ (রহ.) জায়গায় উপর মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করা হয়। দাদা হুজুর পীর সাহেবের নামনুসারে প্রতিষ্টানের নামকরণ করা হয়, চট্টগ্রাম নেছারিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।
১৯৭৮ সাল থেকে মাদ্রাসার কার্যক্রম চালু করেন।
মুফতি মোজাফ্ফর আহমদ (রহ.) এর প্রিয় ছাত্র প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সাখাওয়াত হোসেন (রহ.) কে সুপার হিসেবে নিয়োগ দেন। অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মোজাফ্ফর (রহ.) তিনি তখনো জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় এসে চট্টগ্রাম নেছারিয়া আলিয়া মাদ্রাসার তদারকি করতেন।
১৯৮২ সালে তিনি জামেয়ার অধ্যক্ষের পদ ছেড়ে চট্টগ্রাম নেছারিয়া মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষপদে যোগদান করেন।
ওনার জীবনের অক্লান্ত পরিশ্রমে নেছারিয়া মাদ্রাসাটি খুবই অল্প দিনেই সারা দেশের বিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্টান হিসেবে উন্নতি লাভ করেন, এবং কামিল পর্যন্ত সরকারী মঞ্জুর প্রাপ্তি হন।
আমৃত্যু উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী আল্লামা মুফতি মোজাফ্ফর আহমদ (রহ.) স্বীয় প্রতিভা বলে যশ ও খ্যাতির উচ্চ সোপানে পৌঁছতে সক্ষম হন।
তিনি তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, পারদর্শিতা, সরলতা, উদারতা,সততা, নিষ্ঠা ও বদান্যতার এক অপূর্ব ও বিরল সমন্বয় তার চরিত্রে ছিল লক্ষ্যণীয়।তিনি সৈয়দ আহমদ বেরলভী (রহ.) অনূসারী ছিলেন।
এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯৯৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ।
ওনার জানাযায় লক্ষাধিক লোকের সমাগন হয়, উক্ত জানাযার নামাজের ইমামতি করেন ইমামে আহলে সুন্নত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মাওলানা কাজ্বী নুরুল ইসলাম হাসেমী (রহ.)। মোকাব্বির ছিলেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মেশকাত উদ্দীন (রহ.)। ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সূফিয়ার (বড় হুজুর) হযরত মাওলানা নুরুচ্ছালাম (রহ.)। ওনার মাজার শরীফ চট্টগ্রাম নেছারিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের মিলন মোহনায় অবস্থিত।
মহান আল্লাহ তায়ালা যেন ওনাকে জান্নাতের সু-উচ্চ মাকাম দান করেন। আ-মী-ন।
মাওলানা জিয়াউল হালীম মোর্শেদ এর টাইম লাইন হতে।